
নিজস্ব প্রতিবেদক | কালের বার্তা
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অবৈধ জুয়ার বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রূপনগর থানা-এর ১২ নম্বর সেকশনের শেষ প্রান্তে, ফাইজুরের গরুর খামারের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে “আন্দার বাহার” নামক অবৈধ ক্যাসিনো/জুয়ার আসর। অভিযোগ রয়েছে—এটি এখন আর গোপন কোনো কার্যক্রম নয়, বরং এক ধরনের প্রকাশ্য ‘সিন্ডিকেট ব্যবসা’তে পরিণত হয়েছে।
* সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শুরু টাকার খেলা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় এই জুয়ার আসরের কার্যক্রম। রাত যত গভীর হয়, ততই বাড়তে থাকে খেলোয়াড়দের ভিড় ও টাকার অঙ্ক। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ এখানে জড়ো হয়ে অংশ নেন “আন্দার বাহার” খেলায়, যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোপন সূত্রের দাবি—
এই আসরে নির্দিষ্ট টেবিল, ডিলার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় এটি একটি সুসংগঠিত চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
* যাদের ছত্রছায়ায় চলছে এই জুয়া !
এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, এই অবৈধ জুয়ার আসরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন শাহজাহান, মোস্তফা এবং ‘আলহাজ্ব’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের ভাষ্য—এই ‘আলহাজ্ব’ নিজেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রকাশ্যেই দাবি করেন, তিনি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কিছু কর্মকর্তাকে “ম্যানেজ” করে রেখেছেন।এ ধরনের বক্তব্যে এলাকায় আতঙ্কের পাশাপাশি আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
* রুপনগর থানা পুলিশের ভূমিকা: রহস্য নাকি নিরবতা?
অভিযোগ রয়েছে, মাঝে মাঝে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলেও তা অনেকটাই ‘লোক দেখানো’ বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযান শেষে কয়েকদিনের জন্য কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার আগের মতো জমে ওঠে জুয়ার আসর।
- স্থানীয়দের প্রশ্ন—
- কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না এই অবৈধ কার্যক্রম?
- অভিযানের পরও কীভাবে একই স্থানে পুনরায় শুরু হয় জুয়া?
- এর পেছনে কি কোনো অদৃশ্য শক্তির প্রভাব রয়েছে?
- এসকল জুয়ার বিস্তারে সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের জুয়ার আসর সমাজে বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তরুণ সমাজ দ্রুত জড়িয়ে পড়ছে যেমন মাদক, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বাড়ার আশঙ্কা এবং পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়াও আরো বলেন,“আন্দার বাহার” নামের এই জুয়ার আসর এখন শুধুমাত্র একটি অবৈধ খেলা নয়—এটি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের প্রতিচ্ছবি, যেখানে আইনের উপস্থিতি নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সত্যিই কঠোর অবস্থান নেয় কিনা, নাকি আগের মতোই হচ্ছে কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রুপনগর থানা পুলিশ স্বৈরাচারী সরকারের সময় যেমন ছিল ঠিক সেই রুপে ফিরে আসছে তাই তাদের নিরবতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে!
স্থানীয় এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমাদের বাসার পাশে প্রতিদিন এমন অবৈধ কাজ চলবে, আর আমরা কিছুই করতে পারব না—এটা হতে পারে না।”
তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো—
* অবিলম্বে জুয়ার আসর সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে
* জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে
* সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে
এবিষয়ে রুপনগর থানার অফিসার ইনচার্জের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আপনার এলাকায় এমন কোনো ঘটনা থাকলে জানাতে পারেন:
ই-মেইল:- info@kalerbarta.online
মুঠোফোন:- +880 9678754024










