, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পল্টনের অভিজাত হোটেলে প্রকাশ্য ক্যাসিনো: আজম সিন্ডিকেটের দখলে ক্যাপিটাল–ভিক্টোরিয়া, নীরব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভাঙ্গা উপজেলায় ‘সস্তা বাজার’-এর মুখোশের আড়ালে অবৈধ শিল্প বাণিজ্য মেলা ? প্রথমবারের মতো গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমান গেন্ডারিয়া: দিনে কোটি টাকার ইয়াবা, আতঙ্কে জনপদ—নীরব আইন ? রাজধানীর বুকে আইন অন্ধ: যাত্রাবাড়ীর কাজলা স্কুল গলিতে রাতভর ‘আন্ধার বাহার’ ক্যাসিনো, নীরব থানা ! ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এনআইডি পাচ্ছেন তারেক রহমান শাহবাগ মোড়ে ফিরেছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ঢাকা-১৭ আসনে ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান ওসমান হাদী হত্যার ছক তদন্ত রিপোর্টে বেরিয়ে এল ভারতের নাম রোববার কমিশনে উঠছে তারেক রহমান ও জাইমার ভোটার হওয়ার নথি : ইসি সচিব

বন্ধ হচ্ছে অটোরিকশার উৎপাদন-চার্জিং পয়েন্ট

  • প্রকাশের সময় : ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
  • ৩১৩ পড়া হয়েছে

 

 

স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেছেন, ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেসকোর সহায়তায় এসব রিকশার চার্জিং পয়েন্ট ও উৎপাদনের ওয়ার্কশপ বন্ধ করা হবে। ঢাকার মূলসড়কে কোনো রিকশা চলাচল করতে পারবে না। রিকশা চলাচল করবে অভ্যন্তরের সড়কে। রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ডিএনসিসির যৌথভাবে ব্যাটারি চালিত অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকালে ডিএনসিসির প্রশাসক এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এ সমীক্ষায় দেখা গেছে ২০ শতাংশ দুর্ঘটনা এই ব্যাটারি চালিত রিকশার কারণে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শহরের নারী ও শিশুরা। এগুলো কোনো নীতিমালা বা যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয় নাই। প্রায়ই দেখা যায় পথচারীদের উপর উঠে যাচ্ছে, অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ও সড়কে গণপরিবহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরতে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বুয়েটের সহায়তায় ইতোমধ্যে ব্যাটারি চালিত নিরাপদ রিকশার নকশা প্রস্তুত করে কয়েকটি কোম্পানিকে প্রস্তুতের জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।

 

তিনি আরো বলেন, এই মাসের মধ্যে ডিএনসিসি রিকশা চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। প্রশিক্ষণ শেষে উত্তীর্ণরাই বৈধ লাইসেন্স পাবে এবং অনুমোদিত কোম্পানির তৈরি রিকশা শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় চালাতে পারবে। এক এলাকার বৈধ রিকশাও অন্য এলাকায় যেতে পারবে না। যাত্রী ভোগান্তি কমাতে ভাড়া ও নির্ধারিত থাকবে। একটি জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য একটা রিকশা লাইসেন্স দেয়া হবে। চলমান রিকশা নিয়ে যে বাণিজ্য রয়েছে তা বন্ধ করা হবে।

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের যৌথভাবে পরিচালিত আজকের অভিযানে মূলসড়কে চলাচলরত আনুমানিক ৩০টি ব্যাটারি চালিত রিকশা জব্দ করা হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডিএনসিসির অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা, ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলমসহ ডিএমপির কর্মকর্তা, ডিএনসিসির অঞ্চল-৫ এর কর্মকর্তারা।

 

জানা যায়, রাজধানীতে বর্তমানে পাঁচ লাখেরও বেশি অটোরিকশা চলাচল করছে। ঢাকায় গত কয়েক বছরে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা বেড়েছে। আগে বেশির ভাগ রিকশাই অলিগলিতে চলত। গত বছরের শেষের দিক থেকে এসব রিকশা মূল সড়কে উঠে এসেছে। ফলে রাজধানীর সড়কে রিকশার বিস্ফোরণ হয়েছে। এসব রিকশার কারণে একদিকে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত যানবাহন ও গণপরিবহন চলাচলে বিঘœ ঘটাচ্ছে। লাখ লাখ রিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে গ্রাহক পর্যায়ের বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে। এতে চাহিদার সময় বিদ্যুতের ওপর চাপ বাড়ছে, যা বিভিন্ন সময় লোডশেডিংয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এখন সব সড়কেই বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে অটোরিকশা। মূল সড়কে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করছে। এসব রিকশা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকেও। ফলে ব্যাহত হচ্ছে সড়কের শৃঙ্খলা, বাড়ছে যানজট।

 

ঢাকায় চলাচলকারী ব্যাটারি রিকশার ৯০ ভাগই এখনো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের। বাস, ট্রাক ও প্রাইভেটকারের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে অটোরিকশা চালানো হচ্ছে। অলিগলি, প্রধান সড়ক, ভিআইপি সড়কসহ যেকোনো সড়কই হোক না কেন ব্যাটাারিচালিত রিকশা যেন থামানোই যাচ্ছে না। গতবছর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের নির্দেশ দেন। ওই সময় ঢাকার সব সড়কে ব্যাটারিচালিক রিকশা চালানোর দাবিতে মালিক-শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে। সেসময় থেকে দেখা যায় প্রায় ৯০ ভাগ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ব্যাটারিচালিত চায়না অটোরিকশার মালিকরা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাকর্মী ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। এরপর ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিক-শ্রমিকরা অরাজকতা শুরু করলে সরকার তড়িঘড়ি করে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। আপিলের রায়ে আপাতত ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকায় চলবে বলে আদেশ আসে। ফলে আন্দোলন বন্ধ করেন ব্যাটারিচালিত রিকশা মালি

ক-শ্রমিকরা।

 

 

 

জনপ্রিয়

পল্টনের অভিজাত হোটেলে প্রকাশ্য ক্যাসিনো: আজম সিন্ডিকেটের দখলে ক্যাপিটাল–ভিক্টোরিয়া, নীরব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

বন্ধ হচ্ছে অটোরিকশার উৎপাদন-চার্জিং পয়েন্ট

প্রকাশের সময় : ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

 

 

স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেছেন, ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেসকোর সহায়তায় এসব রিকশার চার্জিং পয়েন্ট ও উৎপাদনের ওয়ার্কশপ বন্ধ করা হবে। ঢাকার মূলসড়কে কোনো রিকশা চলাচল করতে পারবে না। রিকশা চলাচল করবে অভ্যন্তরের সড়কে। রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ডিএনসিসির যৌথভাবে ব্যাটারি চালিত অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকালে ডিএনসিসির প্রশাসক এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এ সমীক্ষায় দেখা গেছে ২০ শতাংশ দুর্ঘটনা এই ব্যাটারি চালিত রিকশার কারণে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শহরের নারী ও শিশুরা। এগুলো কোনো নীতিমালা বা যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয় নাই। প্রায়ই দেখা যায় পথচারীদের উপর উঠে যাচ্ছে, অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ও সড়কে গণপরিবহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরতে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বুয়েটের সহায়তায় ইতোমধ্যে ব্যাটারি চালিত নিরাপদ রিকশার নকশা প্রস্তুত করে কয়েকটি কোম্পানিকে প্রস্তুতের জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।

 

তিনি আরো বলেন, এই মাসের মধ্যে ডিএনসিসি রিকশা চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। প্রশিক্ষণ শেষে উত্তীর্ণরাই বৈধ লাইসেন্স পাবে এবং অনুমোদিত কোম্পানির তৈরি রিকশা শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় চালাতে পারবে। এক এলাকার বৈধ রিকশাও অন্য এলাকায় যেতে পারবে না। যাত্রী ভোগান্তি কমাতে ভাড়া ও নির্ধারিত থাকবে। একটি জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য একটা রিকশা লাইসেন্স দেয়া হবে। চলমান রিকশা নিয়ে যে বাণিজ্য রয়েছে তা বন্ধ করা হবে।

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের যৌথভাবে পরিচালিত আজকের অভিযানে মূলসড়কে চলাচলরত আনুমানিক ৩০টি ব্যাটারি চালিত রিকশা জব্দ করা হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডিএনসিসির অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা, ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলমসহ ডিএমপির কর্মকর্তা, ডিএনসিসির অঞ্চল-৫ এর কর্মকর্তারা।

 

জানা যায়, রাজধানীতে বর্তমানে পাঁচ লাখেরও বেশি অটোরিকশা চলাচল করছে। ঢাকায় গত কয়েক বছরে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা বেড়েছে। আগে বেশির ভাগ রিকশাই অলিগলিতে চলত। গত বছরের শেষের দিক থেকে এসব রিকশা মূল সড়কে উঠে এসেছে। ফলে রাজধানীর সড়কে রিকশার বিস্ফোরণ হয়েছে। এসব রিকশার কারণে একদিকে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত যানবাহন ও গণপরিবহন চলাচলে বিঘœ ঘটাচ্ছে। লাখ লাখ রিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে গ্রাহক পর্যায়ের বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে। এতে চাহিদার সময় বিদ্যুতের ওপর চাপ বাড়ছে, যা বিভিন্ন সময় লোডশেডিংয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এখন সব সড়কেই বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে অটোরিকশা। মূল সড়কে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করছে। এসব রিকশা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকেও। ফলে ব্যাহত হচ্ছে সড়কের শৃঙ্খলা, বাড়ছে যানজট।

 

ঢাকায় চলাচলকারী ব্যাটারি রিকশার ৯০ ভাগই এখনো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের। বাস, ট্রাক ও প্রাইভেটকারের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে অটোরিকশা চালানো হচ্ছে। অলিগলি, প্রধান সড়ক, ভিআইপি সড়কসহ যেকোনো সড়কই হোক না কেন ব্যাটাারিচালিত রিকশা যেন থামানোই যাচ্ছে না। গতবছর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের নির্দেশ দেন। ওই সময় ঢাকার সব সড়কে ব্যাটারিচালিক রিকশা চালানোর দাবিতে মালিক-শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে। সেসময় থেকে দেখা যায় প্রায় ৯০ ভাগ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ব্যাটারিচালিত চায়না অটোরিকশার মালিকরা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাকর্মী ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। এরপর ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিক-শ্রমিকরা অরাজকতা শুরু করলে সরকার তড়িঘড়ি করে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। আপিলের রায়ে আপাতত ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকায় চলবে বলে আদেশ আসে। ফলে আন্দোলন বন্ধ করেন ব্যাটারিচালিত রিকশা মালি

ক-শ্রমিকরা।