, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভাঙ্গা উপজেলায় ‘সস্তা বাজার’-এর মুখোশের আড়ালে অবৈধ শিল্প বাণিজ্য মেলা ? প্রথমবারের মতো গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমান গেন্ডারিয়া: দিনে কোটি টাকার ইয়াবা, আতঙ্কে জনপদ—নীরব আইন ? রাজধানীর বুকে আইন অন্ধ: যাত্রাবাড়ীর কাজলা স্কুল গলিতে রাতভর ‘আন্ধার বাহার’ ক্যাসিনো, নীরব থানা ! ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এনআইডি পাচ্ছেন তারেক রহমান শাহবাগ মোড়ে ফিরেছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ঢাকা-১৭ আসনে ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান ওসমান হাদী হত্যার ছক তদন্ত রিপোর্টে বেরিয়ে এল ভারতের নাম রোববার কমিশনে উঠছে তারেক রহমান ও জাইমার ভোটার হওয়ার নথি : ইসি সচিব শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

হোমনার বাহেরখোলায় ‘আন্দার বাহার’ জুয়া, ওসি কি নীরব দর্শক নাকি অংশীদার?

  • প্রকাশের সময় : ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৮৪ পড়া হয়েছে

  • মৃতদের পাশে অপরাধের উৎসব: কবরস্থান রোডে ক্যাসিনো, ওসির ভূমিকা ঘিরে প্রশ্নের ঝড় ?
  • আইনের চোখ বেঁধে জুয়ার খেলা: হোমনার কবরস্থান রোডে ‘আন্দার বাহার’ ও নসু গং-এর দাপট

নিজস্ব প্রতিবেদক

হোমনা উপজেলার বাহেরখোলা কবরস্থান রোড—যেখানে মৃতদের নীরবতা, সেখানেই জীবন্ত আইনের প্রকাশ্য দাফন। কবরস্থানের পাশেই, হাক্কার অপর প্রান্তে কয়েকটি ঘরে দিনের পর দিন চলছে ‘আন্দার বাহার’ নামের জমজমাট ক্যাসিনো জুয়া। এলাকাবাসীর বিস্ফোরক অভিযোগ, নসু গং-এর এই অবৈধ জুয়ার আসর স্থানীয় থানার অফিসার ইনচার্জের প্রত্যক্ষ সহায়তা ও আশ্রয়ে রমরমা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যা নামলেই ওই ঘরগুলো পরিণত হয় জুয়ার আখড়ায়। ভেতরে উচ্চ শব্দ, টাকার স্তূপ, বহিরাগত জুয়াড়িদের আনাগোনা—সবই প্রকাশ্য। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে, থানার এত কাছে থেকেও পুলিশের কোনো ‘চোখ’ সেখানে পড়ে না।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন—

> “এগুলো কি তাহলে পুলিশের অঘোষিত শাখা? নাকি আইন শুধু গরিবের জন্য?”

নসু গং-এর দাপট: প্রতিবাদ মানেই বিপদ

নসু গং-এর নাম শুনলেই এলাকায় আতঙ্ক নেমে আসে। স্থানীয়দের দাবি, জুয়ার আসরের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই শুরু হয় হুমকি, ভয়ভীতি ও সামাজিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা।

একজন ভুক্তভোগী বলেন,

> “আমরা জানি এটা অপরাধ, কিন্তু পুলিশ যেখানে জড়িত, সেখানে কার কাছে যাব?”

ওসির ভূমিকা: অদৃশ্য রক্ষক?

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে থানার অফিসার ইনচার্জকে ঘিরে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী—

  • জুয়া চলাকালে পুলিশের টহল আসে,
  • কিন্তু নির্দিষ্ট ওই ঘরগুলোতে কখনো অভিযান হয় না,
  • আগাম ‘বার্তা’ পেয়ে জুয়াড়িরা নিরাপদ থাকে।

এতে প্রশ্ন উঠছে—ওসি কি দায়িত্বে অবহেলাকারী, নাকি এই অপরাধের নীরব অংশীদার?

আইন কেবল বইয়ে বন্দি

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে জুয়া স্পষ্টতই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অথচ হোমনায় সেই আইন যেন কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ। বাস্তবে, জুয়া চলছে পুলিশের ছায়ায়—এমন অভিযোগ উঠলে সেটি শুধু অপরাধ নয়, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য চরম লজ্জা।

প্রশাসনের নীরবতা: ইঙ্গিতবহ

এখনও পর্যন্ত কোনো অভিযান নয়, কোনো তদন্ত নয়, কোনো ব্যাখ্যা নয়। প্রশাসনের এই নীরবতা অনেকের কাছেই সম্মতির সমান বলে মনে হচ্ছে।

হোমনা উপজেলার সচেতন মহলের প্রশ্ন—

কবে তদন্ত শুরু হবে?

কার নির্দেশে থেমে আছে অভিযান?

নসু গং-এর পেছনে আর কারা আছে?

স্থানীয় থানার অফিসার ইনচার্জের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও লেখা প্রকাশের আগ পর্যন্ত তিনি একাধিকবার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কোনো রকম আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নেই।

হিউম্যান রাইটস হেলর্থ ফাউন্ডেশন আইনজীবী শাহীন আলম বলেন সংস্থাটির পক্ষ থেকে একাধিকবার অবগত করা হয়েছে কিন্তু কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি কিন্তু বাহেরখোলা কবরস্থান রোডের ‘আন্দার বাহার’ ক্যাসিনো শুধু একটি জুয়ার আসর নয়—এটি প্রমাণ করে কীভাবে অপরাধ, ভয় আর প্রশাসনিক নীরবতা একত্র হয়ে একটি পুরো এলাকা জিম্মি করতে পারে।এখন দেখার বিষয়, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আইনকে জীবিত করবে, না কি এই জুয়ার কবরের পাশে আরেকটি ন্যায়বিচারের কবর রচিত হবে।

 

ভাঙ্গা উপজেলায় ‘সস্তা বাজার’-এর মুখোশের আড়ালে অবৈধ শিল্প বাণিজ্য মেলা ?

হোমনার বাহেরখোলায় ‘আন্দার বাহার’ জুয়া, ওসি কি নীরব দর্শক নাকি অংশীদার?

প্রকাশের সময় : ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

  • মৃতদের পাশে অপরাধের উৎসব: কবরস্থান রোডে ক্যাসিনো, ওসির ভূমিকা ঘিরে প্রশ্নের ঝড় ?
  • আইনের চোখ বেঁধে জুয়ার খেলা: হোমনার কবরস্থান রোডে ‘আন্দার বাহার’ ও নসু গং-এর দাপট

নিজস্ব প্রতিবেদক

হোমনা উপজেলার বাহেরখোলা কবরস্থান রোড—যেখানে মৃতদের নীরবতা, সেখানেই জীবন্ত আইনের প্রকাশ্য দাফন। কবরস্থানের পাশেই, হাক্কার অপর প্রান্তে কয়েকটি ঘরে দিনের পর দিন চলছে ‘আন্দার বাহার’ নামের জমজমাট ক্যাসিনো জুয়া। এলাকাবাসীর বিস্ফোরক অভিযোগ, নসু গং-এর এই অবৈধ জুয়ার আসর স্থানীয় থানার অফিসার ইনচার্জের প্রত্যক্ষ সহায়তা ও আশ্রয়ে রমরমা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যা নামলেই ওই ঘরগুলো পরিণত হয় জুয়ার আখড়ায়। ভেতরে উচ্চ শব্দ, টাকার স্তূপ, বহিরাগত জুয়াড়িদের আনাগোনা—সবই প্রকাশ্য। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে, থানার এত কাছে থেকেও পুলিশের কোনো ‘চোখ’ সেখানে পড়ে না।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন—

> “এগুলো কি তাহলে পুলিশের অঘোষিত শাখা? নাকি আইন শুধু গরিবের জন্য?”

নসু গং-এর দাপট: প্রতিবাদ মানেই বিপদ

নসু গং-এর নাম শুনলেই এলাকায় আতঙ্ক নেমে আসে। স্থানীয়দের দাবি, জুয়ার আসরের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই শুরু হয় হুমকি, ভয়ভীতি ও সামাজিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা।

একজন ভুক্তভোগী বলেন,

> “আমরা জানি এটা অপরাধ, কিন্তু পুলিশ যেখানে জড়িত, সেখানে কার কাছে যাব?”

ওসির ভূমিকা: অদৃশ্য রক্ষক?

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে থানার অফিসার ইনচার্জকে ঘিরে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী—

  • জুয়া চলাকালে পুলিশের টহল আসে,
  • কিন্তু নির্দিষ্ট ওই ঘরগুলোতে কখনো অভিযান হয় না,
  • আগাম ‘বার্তা’ পেয়ে জুয়াড়িরা নিরাপদ থাকে।

এতে প্রশ্ন উঠছে—ওসি কি দায়িত্বে অবহেলাকারী, নাকি এই অপরাধের নীরব অংশীদার?

আইন কেবল বইয়ে বন্দি

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে জুয়া স্পষ্টতই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অথচ হোমনায় সেই আইন যেন কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ। বাস্তবে, জুয়া চলছে পুলিশের ছায়ায়—এমন অভিযোগ উঠলে সেটি শুধু অপরাধ নয়, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য চরম লজ্জা।

প্রশাসনের নীরবতা: ইঙ্গিতবহ

এখনও পর্যন্ত কোনো অভিযান নয়, কোনো তদন্ত নয়, কোনো ব্যাখ্যা নয়। প্রশাসনের এই নীরবতা অনেকের কাছেই সম্মতির সমান বলে মনে হচ্ছে।

হোমনা উপজেলার সচেতন মহলের প্রশ্ন—

কবে তদন্ত শুরু হবে?

কার নির্দেশে থেমে আছে অভিযান?

নসু গং-এর পেছনে আর কারা আছে?

স্থানীয় থানার অফিসার ইনচার্জের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও লেখা প্রকাশের আগ পর্যন্ত তিনি একাধিকবার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কোনো রকম আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নেই।

হিউম্যান রাইটস হেলর্থ ফাউন্ডেশন আইনজীবী শাহীন আলম বলেন সংস্থাটির পক্ষ থেকে একাধিকবার অবগত করা হয়েছে কিন্তু কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি কিন্তু বাহেরখোলা কবরস্থান রোডের ‘আন্দার বাহার’ ক্যাসিনো শুধু একটি জুয়ার আসর নয়—এটি প্রমাণ করে কীভাবে অপরাধ, ভয় আর প্রশাসনিক নীরবতা একত্র হয়ে একটি পুরো এলাকা জিম্মি করতে পারে।এখন দেখার বিষয়, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আইনকে জীবিত করবে, না কি এই জুয়ার কবরের পাশে আরেকটি ন্যায়বিচারের কবর রচিত হবে।