, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভাঙ্গা উপজেলায় ‘সস্তা বাজার’-এর মুখোশের আড়ালে অবৈধ শিল্প বাণিজ্য মেলা ? প্রথমবারের মতো গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমান গেন্ডারিয়া: দিনে কোটি টাকার ইয়াবা, আতঙ্কে জনপদ—নীরব আইন ? রাজধানীর বুকে আইন অন্ধ: যাত্রাবাড়ীর কাজলা স্কুল গলিতে রাতভর ‘আন্ধার বাহার’ ক্যাসিনো, নীরব থানা ! ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এনআইডি পাচ্ছেন তারেক রহমান শাহবাগ মোড়ে ফিরেছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ঢাকা-১৭ আসনে ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান ওসমান হাদী হত্যার ছক তদন্ত রিপোর্টে বেরিয়ে এল ভারতের নাম রোববার কমিশনে উঠছে তারেক রহমান ও জাইমার ভোটার হওয়ার নথি : ইসি সচিব শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

ভাঙ্গা উপজেলায় ‘সস্তা বাজার’-এর মুখোশের আড়ালে অবৈধ শিল্প বাণিজ্য মেলা ?

  • প্রকাশের সময় : ১৫ ঘন্টা আগে
  • ২৪ পড়া হয়েছে

 

ফরিদপুর প্রতিনিধি:

আইন যেখানে স্পষ্ট, বিধি যেখানে বাধ্যতামূলক—সেখানে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দিনের পর দিন কীভাবে একটি অনুমতিহীন শিল্প ও বাণিজ্য মেলা চলতে পারে ?

তবুও ভাঙ্গা থানার পাশেই বাইরে ঝুলছে একটি বিভ্রান্তিকর সাইনবোর্ড— “সস্তা বাজার”। কিন্তু ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যায়, এটি কোনো সস্তা বাজার নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ, লাভজনক এবং সম্পূর্ণ অবৈধ বাণিজ্যিক মেলা।

ভাঙ্গা উপজেলার একাধিক বাসিন্দাদের প্রশ্ন —

👉 জেলা প্রশাসন কোথায়?

👉 এই নীরবতা কি কেবল অবহেলা, না কি এর  পেছনে রয়েছে ভিন্ন হিসাব?

 

🕵️‍♂️ নাম বদল, নিয়ম লঙ্ঘন—পুরো পরিকল্পনাই কি চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘সস্তা বাজার’ নামটি ব্যবহার করা হয়েছে সচেতনভাবে। কারণ শিল্প ও বাণিজ্য মেলা বসাতে হলে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন, নির্দিষ্ট রাজস্ব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় এবং একাধিক দপ্তরের ছাড়পত্র লাগে। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় ভাঙ্গা থানার পাশে ‘বাজার’ নাম ব্যবহার করে সেই সব আইন ও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়াই যেন এই চক্রের মূল কৌশল কিন্তু চক্রটি বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় প্রচারণা চালিয়ে আসছে শিল্প বাণিজ্য আনন্দ মেলা নামে কিন্তু থানার পাশেই এমন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড ?

জনমনে প্রশ্ন উঠছে—

জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন কি এতটুকুও জানা নেই যে তাদের আওতাধীন এলাকায় কী চলছে?

 

🎠 শিশুদের জীবন নিয়ে নিষ্ঠুর বাণিজ্য ?

মেলার ভেতরে বসানো হয়েছে নাগরদোলা, ট্রেন রাইড, দোলনা, বিভিন্ন যান্ত্রিক রাইড—যেগুলোতে প্রতিদিন শত শত শিশু উঠছে। নেই কোনো ফিটনেস সার্টিফিকেট, নেই প্রকৌশল তদারকি, নেই ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন, নেই জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা।

 

⚡ বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য—সবই নিয়মবহির্ভূত

 

মেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে। নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নেই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশ। জনসমাগম হলেও নেই কোনো অনুমোদিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা। তবুও প্রতিদিন হাজারো মানুষ সেখানে ভিড় করছে—দুর্ঘটনার ঝুঁকি মাথায় নিয়েই। এই অবস্থা চলতে থাকলে বড় কোনো দুর্ঘটনার দায় কি জেলা প্রশাসন এড়াতে পারবে?

 

💰 রাজস্ব ফাঁকি—সরকার হারাচ্ছে, কারা ভরছে পকেট?

 

দোকান ভাড়া, রাইডের টিকিট, প্রবেশ ফি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল অর্থ আদায় হচ্ছে। অথচ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে না এক টাকাও। এই অর্থ যাচ্ছে কোথায়? কারা এই অবৈধ বাণিজ্যের সুবিধাভোগী?

 

রাজস্ব ফাঁকির এই চিত্র কি জেলা প্রশাসনের নজরে পড়ে না—নাকি পড়লেও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না এমনটাই বলেছেন উপজেলার একাধিক বাসিন্দা ?

 

উক্ত বিষয়টি দেশের প্রচলিত আইনে কি আছে জানতে মুঠো ফোনে কথা হয় হিউম্যান রাইটস হেলর্থ ফাউন্ডেশন (আসক) এর আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহীন আলম জানান,এই তথাকথিত ‘সস্তা বাজার’-এ প্রকাশ্যে আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে—

* ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আইন, ২০০৩

* শিশু আইন, ২০১৩

* পাবলিক গ্যাদারিং সংক্রান্ত বিধিমালা

* স্থানীয় সরকার আইন

* ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, ২০০৯

 

তিনি আরো বলেন, আইন যেখানে এত স্পষ্ট, সেখানে ব্যবস্থা নেই কেন এবং ভাঙ্গা থানার দেয়াল ঘেঁষে যদি অবৈধ শিল্প বাণিজ্য মেলা চলে, তবে সাধারণ মানুষের কাছে বার্তাটা কী যায় তবে দেশে আইনের সুশাসন নেই ?

এছাড়াও আরো বলেন,একজন জেলা প্রশাসক জেলার সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্মকর্তা। আইন অনুযায়ী অবৈধ মেলা বন্ধ করা, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব আদায় করা তাঁর সরাসরি দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসন এসকল প্রশ্ন এড়ানোর সুযোগ নেই—এই নীরবতা কি শুধুই ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে আছে অদৃশ্য কোনো সমঝোতা ?

অতিদ্রুত এসকল অনুমতিবিহীন শিল্প বাণিজ্য মেলা বন্ধ করে আয়োজকদের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি সহ আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে তাহলেই উপজেলার জনমনে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে বলে জানান তিনি ।

শিল্প বাণিজ্য মেলার বিষয়টি নিয়ে জানতে ভাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এবিষয়ে আমি অবগত নেই তবে অনুমতিবিহীন শিল্প বাণিজ্য মেলার কোনো কার্যক্রম হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া যে কোনো ঘটনার তথ্য আমাদের জানাতে পারেন ।

ই-মেইল – barta@dailykalerbarta.online

মুঠো ফোন – +৮৮০ ১৯৫৫ ৬২ ৫৩ ৫৩

ভাঙ্গা উপজেলায় ‘সস্তা বাজার’-এর মুখোশের আড়ালে অবৈধ শিল্প বাণিজ্য মেলা ?

ভাঙ্গা উপজেলায় ‘সস্তা বাজার’-এর মুখোশের আড়ালে অবৈধ শিল্প বাণিজ্য মেলা ?

প্রকাশের সময় : ১৫ ঘন্টা আগে

 

ফরিদপুর প্রতিনিধি:

আইন যেখানে স্পষ্ট, বিধি যেখানে বাধ্যতামূলক—সেখানে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দিনের পর দিন কীভাবে একটি অনুমতিহীন শিল্প ও বাণিজ্য মেলা চলতে পারে ?

তবুও ভাঙ্গা থানার পাশেই বাইরে ঝুলছে একটি বিভ্রান্তিকর সাইনবোর্ড— “সস্তা বাজার”। কিন্তু ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যায়, এটি কোনো সস্তা বাজার নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ, লাভজনক এবং সম্পূর্ণ অবৈধ বাণিজ্যিক মেলা।

ভাঙ্গা উপজেলার একাধিক বাসিন্দাদের প্রশ্ন —

👉 জেলা প্রশাসন কোথায়?

👉 এই নীরবতা কি কেবল অবহেলা, না কি এর  পেছনে রয়েছে ভিন্ন হিসাব?

 

🕵️‍♂️ নাম বদল, নিয়ম লঙ্ঘন—পুরো পরিকল্পনাই কি চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘সস্তা বাজার’ নামটি ব্যবহার করা হয়েছে সচেতনভাবে। কারণ শিল্প ও বাণিজ্য মেলা বসাতে হলে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন, নির্দিষ্ট রাজস্ব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় এবং একাধিক দপ্তরের ছাড়পত্র লাগে। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় ভাঙ্গা থানার পাশে ‘বাজার’ নাম ব্যবহার করে সেই সব আইন ও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়াই যেন এই চক্রের মূল কৌশল কিন্তু চক্রটি বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় প্রচারণা চালিয়ে আসছে শিল্প বাণিজ্য আনন্দ মেলা নামে কিন্তু থানার পাশেই এমন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড ?

জনমনে প্রশ্ন উঠছে—

জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন কি এতটুকুও জানা নেই যে তাদের আওতাধীন এলাকায় কী চলছে?

 

🎠 শিশুদের জীবন নিয়ে নিষ্ঠুর বাণিজ্য ?

মেলার ভেতরে বসানো হয়েছে নাগরদোলা, ট্রেন রাইড, দোলনা, বিভিন্ন যান্ত্রিক রাইড—যেগুলোতে প্রতিদিন শত শত শিশু উঠছে। নেই কোনো ফিটনেস সার্টিফিকেট, নেই প্রকৌশল তদারকি, নেই ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন, নেই জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা।

 

⚡ বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য—সবই নিয়মবহির্ভূত

 

মেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে। নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নেই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশ। জনসমাগম হলেও নেই কোনো অনুমোদিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা। তবুও প্রতিদিন হাজারো মানুষ সেখানে ভিড় করছে—দুর্ঘটনার ঝুঁকি মাথায় নিয়েই। এই অবস্থা চলতে থাকলে বড় কোনো দুর্ঘটনার দায় কি জেলা প্রশাসন এড়াতে পারবে?

 

💰 রাজস্ব ফাঁকি—সরকার হারাচ্ছে, কারা ভরছে পকেট?

 

দোকান ভাড়া, রাইডের টিকিট, প্রবেশ ফি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল অর্থ আদায় হচ্ছে। অথচ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে না এক টাকাও। এই অর্থ যাচ্ছে কোথায়? কারা এই অবৈধ বাণিজ্যের সুবিধাভোগী?

 

রাজস্ব ফাঁকির এই চিত্র কি জেলা প্রশাসনের নজরে পড়ে না—নাকি পড়লেও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না এমনটাই বলেছেন উপজেলার একাধিক বাসিন্দা ?

 

উক্ত বিষয়টি দেশের প্রচলিত আইনে কি আছে জানতে মুঠো ফোনে কথা হয় হিউম্যান রাইটস হেলর্থ ফাউন্ডেশন (আসক) এর আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহীন আলম জানান,এই তথাকথিত ‘সস্তা বাজার’-এ প্রকাশ্যে আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে—

* ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আইন, ২০০৩

* শিশু আইন, ২০১৩

* পাবলিক গ্যাদারিং সংক্রান্ত বিধিমালা

* স্থানীয় সরকার আইন

* ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, ২০০৯

 

তিনি আরো বলেন, আইন যেখানে এত স্পষ্ট, সেখানে ব্যবস্থা নেই কেন এবং ভাঙ্গা থানার দেয়াল ঘেঁষে যদি অবৈধ শিল্প বাণিজ্য মেলা চলে, তবে সাধারণ মানুষের কাছে বার্তাটা কী যায় তবে দেশে আইনের সুশাসন নেই ?

এছাড়াও আরো বলেন,একজন জেলা প্রশাসক জেলার সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্মকর্তা। আইন অনুযায়ী অবৈধ মেলা বন্ধ করা, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব আদায় করা তাঁর সরাসরি দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসন এসকল প্রশ্ন এড়ানোর সুযোগ নেই—এই নীরবতা কি শুধুই ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে আছে অদৃশ্য কোনো সমঝোতা ?

অতিদ্রুত এসকল অনুমতিবিহীন শিল্প বাণিজ্য মেলা বন্ধ করে আয়োজকদের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি সহ আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে তাহলেই উপজেলার জনমনে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে বলে জানান তিনি ।

শিল্প বাণিজ্য মেলার বিষয়টি নিয়ে জানতে ভাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এবিষয়ে আমি অবগত নেই তবে অনুমতিবিহীন শিল্প বাণিজ্য মেলার কোনো কার্যক্রম হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া যে কোনো ঘটনার তথ্য আমাদের জানাতে পারেন ।

ই-মেইল – barta@dailykalerbarta.online

মুঠো ফোন – +৮৮০ ১৯৫৫ ৬২ ৫৩ ৫৩