
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা
রাজধানী ঢাকায় কি সত্যিই আইন চলে? নাকি কিছু এলাকায় আইন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ? যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার কাজলা স্কুল গলি রোডের বরফ গলি যেন সেই প্রশ্নের জীবন্ত উদাহরণ। এলাকাবাসীর অভিযোগ—বরফ গলির মিয়া সাহেবের বাড়ির নিচতলায় ঢুকতেই হাতের ডান পাশে প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় অবৈধ ‘আন্ধার বাহার’ ক্যাসিনো জুয়া, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্যে জুয়া—তাও আবার দিনের পর দিন। অথচ কোথাও নেই আইনের দৃশ্যমান উপস্থিতি।
🎰 সন্ধ্যা থেকে রাত: জুয়ার কারখানায় রূপ নেয় বাড়ির নিচতলা
স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যার পর থেকেই বহিরাগত লোকজনের আনাগোনা শুরু হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিচতলাটি রীতিমতো জুয়ার কারখানায় পরিণত হয়। বড় অঙ্কের টাকার লেনদেন, উচ্চস্বরে চিৎকার, সন্দেহজনক যাতায়াত—সব মিলিয়ে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ।
এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
> “এটা এখন ওপেন সিক্রেট। সবাই জানে এখানে জুয়া হয়, কিন্তু কেউ কিছু করে না।
🚔 প্রশ্নবিদ্ধ যাত্রাবাড়ী থানার ভূমিকা
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ—এই অবৈধ ক্যাসিনো দীর্ঘদিন ধরে চললেও কোনো অভিযান চোখে পড়েনি। ফলে এলাকাবাসীর মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—
থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কি বিষয়টি জানেন না?
নাকি জানার পরও না দেখার ভান করছেন?
অবৈধ জুয়া কি এখন ‘ম্যানেজ’ করে চালানোর সুযোগ পাচ্ছে?
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতা এই অভিযোগকে আরও ঘনীভূত করছে।
⚠️ জুয়া নয়, এটি একটি অপরাধ চক্র
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাসিনো জুয়া শুধু আর্থিক অপরাধ নয়—এটি মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও পারিবারিক সর্বনাশের প্রবেশদ্বার। তরুণ ও মধ্যবয়সীরা সর্বস্ব হারিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, অথচ প্রশাসনের উদাসীনতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ, প্রশাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ
এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি—
অবিলম্বে জুয়ার আসরে চিরুনি অভিযান
কারা এই ক্যাসিনোর নেপথ্যে আছে তার নিরপেক্ষ তদন্ত যাদের প্রশ্রয়ে এটি চলছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা এলাকাবাসী মনে করছেন, যাত্রাবাড়ী থানার নীরবতা প্রকারান্তরে এই অবৈধ ক্যাসিনোর বৈধতা দিচ্ছে
রাজধানীর বুকে যদি এভাবেই রাতভর ক্যাসিনো চলে, তবে সাধারণ মানুষ আইনের আশ্রয় পাবে কোথায়?
যাত্রাবাড়ীতে কি ‘আন্ধার বাহার’-এর জৌলুসে আইনও অন্ধ হয়ে গেছে?
এবিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।









